রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে ৯৩৪ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ফলে এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি ৬২ লাখ টাকায়। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের ৩০ জুন শেষে পাওয়ার গ্রিডের মেয়াদি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকায়, আগের হিসাব বছরের ৩০ জুন শেষে যা ছিল ছিল ৫০ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। এ সময়ে পাওয়ার গ্রিডের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৮৯ কোটি টাকা।
সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে টাকার অবমূল্যায়নজনিত কারণে কোম্পানিটির ৯৩৪ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। ফলে আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটিকে ২১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা নিট লোকসান গুনতে হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে নিট লোকসান ছিল ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
লোকসানের কারণে সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৬৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সায়।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শর্তানুযায়ী, টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটিকে বিদ্যমান ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছে। এদিকে ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্ববান করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১ ডিসেম্বর।
চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে পাওয়ার গ্রিডের মুনাফা হয়েছে ১৯৪ কোটি টাকা। আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে লোকসান ছিল ৬১১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফ হয়েছে ৩৬৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যেখানে কর-পরবর্তী নিট লোকসান ছিল ২৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১০ টাকা ১১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩২ টাকা ৬১ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে পাওয়ার গ্রিড। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮ টাকা ৮৯ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনিএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫৯ টাকা ৪৭ পয়সায়।
২০০৬ সালে পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত পাওয়ার গ্রিডের অনুমোদিত মূলধন ১৫ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৪৬৭৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৯৯১। এর ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ২২, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৪ দশমিক ৫৭, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।